গুরুদেব শ্রীশ্রী বামাক্ষ্যাপা বাবার জীবনী পর্ব - ৬


আচ্ছা বাবা, ঠাকুরকে যে অত অত ফলের ভোগ
দেওয়া হয়, ঠাকুর ওসব খায়?
ছেলের প্রশ্ন শুনে দারিয়ে পরলেন সর্বানন্দ।
 এ প্রশ্ন তো জা তা প্রশ্ন নয় - এ যে বর কঠিন প্রশ্ন।
তবুও উত্তর দিলেন তিনি।
বলেন হাসি মুখেই - খায় বাবা নিচ্ছই খায়।
তবে মা তো আর ছেলেরা না খেলে আগে খেতে পারে না।
পৃথিবীসূদ্ব এতো অনাহারি সন্তান।
তাদের না খাইয়ে মা কি করে খেতে পারে?
তোমার খাওয়া না হলে তোমার মা খাবে?
বাবার কথা মন দিয়ে শুনলেন বামাচরন,
কিন্তু কথা গুলো ঠিক মনঃপুত হল না।
কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো বামাচরন, তারপর আবার প্রশ্ন
 - আচ্ছা বাবা, মাটির ঠাকুর কথা কয়?
 এবার আরও অবাক হলেন বাবা। এ একদম ছেলেমানুষি প্রশ্ন।
উত্তর দিলেন ছেলের প্রশ্নে.. বললেন হ্যাঁ হ্যাঁ, কথা কয়।
মাটির ঠাকুর কে বলবে? মাটিটা তো বাইরের আবরন।
ওই মাটির মূর্তির ভিতরে লুকিয়ে আছে চিন্ময়ী -মূর্তি।
কিন্তু মূর্তি তো সবাই দেখতে পায় না।
যারা তারাই সাধনবলে দেখতে পায়।
মৃন্ময়ী - মূর্তির মধ্যে সাধনা করে দেবীর প্রান প্রতিষ্ঠা হয়।
তখন আর দেবী কথা না বলে পারেন না।
আর কিছু ভাবনা নাই বামাচারনের।
বাবার কথা সত্য বলেই বিশ্বাস বামার মনে।
মাটির ঠাকুরও কথা বলে, কিন্তু সেই মাটির ঠাকুরের মধ্যে প্রান প্রতিষ্ঠা।
আর তার জন্য দরকার সাধনা।
সাধক তার সাধনার বলে দেবীর প্রান প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
 তখন বলে দেবী,- ভোগ প্রসাদ খায়।
..... এই সব কথা ভাবতে ভাবতে বাবার পিছনে পিছনে হাঁটতে থাকে বামাচরন...










Tarapith. Powered by Blogger.